প্যাকেজিং বা কাগজের বাক্স তৈরি ও ব্যবসা/Most profitable small businesses

0
1314

ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উত্পাদন শিল্পের একটার বড় ধরণের ভূমিকা থাকে দেশের  অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি রুপে। আমাদের  দেশে ছোট ম্যানুফ্যাকচারিং ব্যবসার গুরুত্ব অপরিসীম।

অল্প পুঁজিতে ও কম লোক বল নিয়ে শুরু করা যায় এই ব্যবসা ।তবে উত্পাদনমুখী ব্যবসায় জিনিসের গুণমানই ব্যবসায়িক সাফল্যের চাবিকাঠি।

আজ আমরা এমন কয়েকটি ব্যবসা  নিয়ে আলোচনা করব যা শুরু করতে খুব সামান্য বিনিয়োগ করে ব্যবসাটি শুরু করা যায়। ব্যবসাটি হল প্যাকেজিং বা কাগজের বাক্স তৈরির ব্যবসা

গ্রাম বা শহর সব জায়গার শাড়ি, জুতা, মিষ্টি, খাবার প্রভৃতির দোকানে প্যাকেট দরকার হয়। ভালো প্যাকেজিং ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি সম্ভব হয় না। উন্নতমানের প্যাকেজিং বাক্স তৈরি করে দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা যেতে পারে।

বিভিন্ন ধরনের পণ্য সামগ্রী বাজারজাত এবং আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্যাকেট ব্যবহৃত হয়। যেমন- শাড়ীর বাক্স, জুতোর বাক্স, মিষ্টির বাক্স, বিরিয়ানীর বাক্স ইত্যাদি। মোটা, শক্ত কাগজ দিয়ে এসব প্যাকেট তৈরি করাকে করা হয়।

বাজার সম্ভাবনা

গ্রাম বা শহর সব জায়গার শাড়ী, জুতা, মিষ্টি, খাবার প্রভৃতির দোকানে প্যাকেট দরকার হয়। ভালো প্যাকেজিং ছাড়া ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নতি সম্ভব হয় না। উন্নত মানের প্যাকেজিং বাক্স তৈরি করে দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানী করা যেতে পারে।

মূলধন

আনুমানিক 1000 টাকার স্থায়ী মেশিন ও 2000 টাকা কাঁচামাল নিয়ে ছোট আকারে  প্যাকেজিং ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে।

প্রশিক্ষণ

প্যাকেজিং ব্যবসাতে প্যাকেট তৈরি প্রশিক্ষণের জন্য Micro, Small & Medium Enterprises, Government of West Bengal কেন্দ্রে যোগাযোগা করা যেতে পারে।

প্রয়োজনীয় উপকরণ, পরিমাণ মূল্য

কড়াই:1 টি

চুলা:1 টি

স্কেল:1 টি

গামলা:1 টি

কাঁচি:1 টি

বাটি:1 টি

ব্রাশ(কাঠ):1 টি

খুনতি:1 টি

চৌকি:1 টি

মোট=1000 টাকা

কাঁচামাল:

বোর্ড কাগজ :500 শীট- Rs.1000-1200 কাগজের পাইকারী দোকান থেকে কিনতে হবে।

সাদা কাগজ   :500 শীট- Rs. 250-300  কাগজের পাইকারী দোকান থেকে কিনতে হবে।

রঙিন কাগজ:200 শীট- Rs. 200-300  কাগজের পাইকারী দোকান থেকে কিনতে হবে।

আঠা     : 1   kg     Rs. 50-100 হার্ডওয়ারের দোকান থেকে কিনতে হবে।

মোট= 1500 -1900 টাকা।

প্যাকেট তৈরির নিয়ম 

জুতার প্যাকেট তৈরির নিয়ম

  • যদি কোন কোম্পানীর কাছ থেকে অর্ডার পেয়ে থাকেন তাদের নিজস্ব প্রোডাক্টের জন্য তবে তাদের কোম্পানির নাম ও লোগোর ডিজাইন বানিয়ে প্রিন্টিং প্রেসে বড় শীটে প্রিন্ট করে নিতে হবে।
  • যদি অর্ডার না থাকে তবে কোন রকম ডিজাইন ছাড়াই কাটিং করতে হবে।
  • জুতার বাক্সের সাইজ অনুযায়ী শীটগুলো কাগজ কাটার মেশিন দিয়ে কেটে নিতে হয়।
  • এরপর এগুলো ক্রিজ মেশিন দিয়ে ভাঁজ করা হয়।
  • ভাঁজ করা অংশগুলো আঠা দিয়ে জোড়া লাগানো হয়।
  • বাক্সের দুইটি অংশ থাকে বাক্স এবং তার ঢাকনা।

জুতার বাক্সগুলো সাধারণত একই সাইজের হয়ে থাকে। তবে বাচ্চাদের জুতার বাক্সগুলো আকারে ছোট হয়ে থাকে।

বাক্সের বাইরের খসখসে অংশটুকু রঙ্গীন কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে দেয়া হয়।

মিষ্টির প্যাকেট তৈরির নিয়ম

  • মিষ্টির বাক্স তৈরির ক্ষেত্রে নরম বোর্ড দিয়ে বাক্স তৈরি করা হয়।
  • মিষ্টির বাক্সের আকার অনুযায়ী শীটগুলো কাগজ কাটার মেশিন দিয়ে কাটতে হয়।
  • এরপর ক্রিজ মেশিন দিয়ে ভাঁজ করা হয়।
  • বাক্সের দুইটি অংশ থাকে। বাক্স এবং তার ঢাকনা।
  • মিষ্টির ওজন অনুযায়ী বাক্সের সাইজ বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।

বাক্সের বাইরের খসখসে অংশটুকু বিভিন্ন রঙের কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে দেয়া হয়।

সাবধানতা

হাতে গ্লাভস/দস্তানা ব্যবহার করতে হবে। কাগজ কাটার সময় ভালোভাবে মেপে কাগজ কাটতে হবে যেন কাগজ নষ্ট না হয়।

আনুমানিক আয় লাভের পরিমাণ খরচ:

কাঁচামাল বাবদ খরচ-1500 -1900 টাকা।

যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ  – 60 টাকা।

২ জন শ্রমিক বাবদ খরচ   – 600 টাকা।

শীট গুলো কাটানোর খরচ  – 200 টাকা।

মোট=2360 – 2760 টাকা।

 

আয় লাভ

500 শীট দিয়ে আনুমানিক 1500 প্যাকেট তৈরি করা যায়। প্রতিটি বাক্সের বিক্রি মূল্য 3.00 টাকা হলে 1500 প্যাকেটের বিক্রি মূল্য 4500 টাকা। 1500 প্যাকেট তৈরি খরচ আনুমানিক 2500 টাকা হলে লাভ হতে পারে আনুমানিক 2000 টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here